Friday, August 7, 2015

বন্ধ হতে যাচ্ছে ডিজিটাল অপরাধের প্রধান উৎস্য নিবন্ধনহীন সকল অবৈধ সিম কার্ড

বাজারে অনিবন্ধিত মোবাইল সিমের ছড়াছড়ি। নিবন্ধন না থাকায় এসব সিমের মাধ্যমে ঘটছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ সব সিমের কোনওটা অবৈধ, কোনওটা ডুপ্লিকেট (ক্লোন সিম), আবার কোনওটা বেনামি। ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরে অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজারে থাকা এসব
অবৈধ, ডুপ্লিকেট ও বেনামি সিম কঠোরভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভায় প্রধানমন্ত্রী টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে এ নির্দেশ দেন। এছাড়া বৈঠকে বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারকে টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস) দায়িত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবীদ মোস্তফা জব্বার তার ফেসবুক স্টাটাসে বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম এই বলে যে ডিজিটাল অপরাধের প্রধান উৎস্য নিবন্ধনহীন সিম। বাজারে নিবন্ধনহীন সিম কমদামে সহজে পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে বললেন, তার মোবাইল নাম্বাার নকল করে কেউ তদবির করার জন্য ফোন করে। অথচ বিটিআরসির চেয়ারম্যান মুখে কুলুপ মেরে বসে থাকলেন। তারই দায়িত্ব এই অপকর্ম রোধ করা। তবে আশার কথা সামনের তিন মাসে নিবন্ধনহীন সিম বন্ধ হবে।"


বৃহস্পতিবার রাতে মোস্তাফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টেশিস সর্বোচ্চ ব্যর্থ একটি প্রতিষ্ঠান। আমার চেষ্টা থাকবে প্রতিষ্ঠানটিকে টেনে তোলা এবং তাতে প্রাণ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে তার মানে এই নয় যে, আমরা আর কোনও কিছু বানাতে পারব না। আমরা টেশিস থেকে ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করে প্রমাণ করতে চাই, আমরাও ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করতে পারি।

মোস্তাফা জব্বার জানান, দেশে চার কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন শিক্ষার্থীদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দেওয়া তাহলে কি তা বিদেশ থেকে আমদানি করে দেওয়া হবে? এটা করা হলে তাতে দেশেরই দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। এ কথা প্রধানমন্ত্রীকে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠকে আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ দায়িত্ব মোস্তাফা জব্বারের।'

মোস্তাফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ডিজিটাল ডিভাইসের বড় একটি বাজার আমাদের দেশেই রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এরকম কিছু ব‌‌‌ানানো হলে তা শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে ফিরবে। এই বড় বাজারকে কেন আমরা টার্গেট করছি না। তিনি বলেন, দায়িত্ব পেলে আমি প্রথমেই এইদিকে নজর দিতে চাই। (বাংলা ট্রিবিউন)


Wednesday, June 17, 2015

এখন থেকে ফেসবুকের পোস্টে না বুঝে লাইক দিলে সেটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে

এখন থেকে ফেসবুকের পোস্টে না বুঝে লাইক দিলে সেটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক ছবি ও পোস্টে লাইক দিলে বা শেয়ার করলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
ফেইসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ও সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে রাজধানীতে একজনকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনি
রুল। 
১০-১২টি কথিত নিউজ পোর্টাল সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

মনিরুল বলেন, সাম্প্রদায়িক উসকানি ছাড়ানোর অভিযোগে ওই ১০-১২টি পোর্টাল গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
বিদ্বেষমূলক লেখা বা ছবিতে না বুঝেও যদি কেউ লাইক দেয় তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন,
“‘বিদ্বেষমূলক’ ছবিতে কেউ লাইক দিলে বা সেই পোস্ট শেয়ার করলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কাউকে ট্যাগ করা কোনো পোস্ট সেই ব্যক্তির অজান্তে শেয়ার করা হলে তা অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে না।”

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসতি ও মন্দিরে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের আগেও ফেইসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছিল বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
বিদ্বেষ ছাড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পল্টন এলাকা থেকে ওই যুবকের  গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মো. মুনতাসিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পল্টন এলাকার ৮৫/১ থেকে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

“সে ফেইসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত প্রচার চালিয়ে মুসলমান ও বৌদ্ধদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।”
ব্রিফিংয়ে যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ইসলামিক নিউজ২৪ নামের একটি অনলাইন পত্রিকার ‘কথিত’ সম্পাদক সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
মনিরুল বলেন, “আমাদের ধারণা, একটি মহলের ইন্ধনে সে তার অনলাইন পোর্টালে মিয়ানমারে মুসলমানরা বৌদ্ধদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে এমন ছবি পোস্ট করেছে, যদিও ছবিগুলো মিয়ানমারের না। সেগুলো বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার ছবি।

“২০১০ সালে কঙ্গোতে তেলবাহী একটি গাড়ি বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহতের ঘটনার ছবি, কয়েক বছর আগে থাইল্যান্ড পুলিশের হাতে অনুপ্রবেশকারীদের আটকের একটি ছবিসহ বেশ কয়েকটি ছবি সে মিয়ানমারের ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছিল।”

মনিরুল বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে সাখাওয়াত জানিয়েছে, মিয়ানমারে বৌদ্ধরা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার করছে, এটি সে মেনে নিতে পারছে না। তাই এর প্রতিবাদে সে এই প্রচারণায় নিজের উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ছবি সে নিজেই সংগ্রহ করত।”
অনলাইন পোর্টালটিতে কারা অর্থায়ন করে ধর্মীয় উসকানির চেষ্টা করছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সুত্রঃ বিডি নিউজ