Thursday, October 24, 2019

আপনি কি জানেন নাইট ভিশন কি ভাবে কাজ করে?


 



আপনি কি জানেন নাইট ভিশন কি
? কি ভাবে কাজ করে? এবং কোথায় ব্যাবহার করা হয়?

তাহলে চলুন আগে জেনে নেই নাইট ভিশন কি?
নাইট ভিশন এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে অল্প আলোতে বা অন্ধকারেও ভালো ভাবে দেখা যায়। জৈবিক অথবা প্রযুক্তিগত ব্যবহারে নাইট ভিশন দুটি দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা সংমিশ্রিত।
১. বর্ণালী প্রতিসরণ
২. পর্যাপ্ত তীব্রতা

নাইট ভিশনের ব্যাবহারঃ



চিত্রের  বর্ধনশক্তি আবিস্কারের আগে নাইট ভিশনই ছিল রাতে দেখার একমাত্র  অবলম্বন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাতে যে চশমাটি ব্যবহৃত হতো সেটিতে ছিল নাইট ভিশন প্রযুক্তি। তাছাড়াও ক্যামেরায় নাইট ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
আমাদের এই বর্তমান আধুনিক পৃথিবীতে ক্যামেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। যেটি মেডিকেল সাইন্স থেকে শুরু করে সিকিউরিটি  পর্যন্ত সমস্ত জায়গাতে এর ব্যবহার পরিলক্ষিত। এটি বিভিন্নভাবে আমাদের সহযোগিতা করছে।
যার ফলে জটিল ও কঠিন কাজগুলো সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠছে। সিকিউরিটির দিকে যদি লক্ষ্য করি, যেখানে আমরা ২৪ ঘন্টা কোনো মানুষের ওপর নির্ভর করতে পারি না। কিন্তু ক্যামেরার ওপর নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারি।

এখন আমরা মূলত ক্যামেরাই নাইট ভিশনের তিন ধরনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করবো ।
১.আলোক তীব্রতা বৃদ্ধি
২.তাপীয় দৃষ্টি
৩.সক্রিয় দীপ্তি

আলোক তীব্রতা বৃদ্ধি ঃ



এই টেকনোলজিটি ব্যবহার করা হয় মূলত মিলিটারিদের জন্য। আমরা যারা ইংলিশ মুভি দেখি তারা একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবো সাধারণ লেন্সের ভেতর দিয়ে যখন দূরে কোনো কিছু টার্গেট করা হয় এবং সেখানে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো না থাকে তাহলে লক্ষ্য বস্তুটি শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। আর তখন যদি নাইট ভিশন অন করা হয় তাহলে যেখানে আলো কম আছে সেখানে সবুজ আলো করে দিবে। আর এই সবুজ করে দেয়ার ফলে আমরা জিনিস শনাক্ত করতে পারবো।
এখানে সবুজ করে দেয়ার মানে হচ্ছে আমরা যা দেখি তার মধ্যে সবুজ রঙ টা  আমরা বেশি দেখি। ক্যামেরাও ঠিক একইভাবে সবুজ রঙটাকে শনাক্ত করতে পারবে ভালোভাবে। আমরা যখন ছবি তুলি তখন লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবো সবুজ রঙটা অন্য সব রঙ থেকে একটু বেশি ফুটে উটছে। আর সেই কারনেই এটাকে মূলত সবুজ করে দেয়া হয় যাতে করে লক্ষ্য বস্তুকে আমরা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারি। এই ক্ষেত্রে এটি শুধুমাত্র মিলিটারীদের বা আর্মিদের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে।

তাপীয় দৃষ্টি /Thermal emaging ঃ



থার্মাল ভিশন  যারা ব্রিগেডে থাকে তাদের জন্য এটা ব্যবহার করা হয়। মানুষ যখন জীবিত থাকে তখন তাদের শরীরের ভেতর কিছুটা গরম থাকে। তখনই এই " Thermal emaging " শনাক্ত করতে পারে যে মানুষটি জীবিত আছে নাকি মৃত আছে । এবং এটি  মূলত ব্যবহার করা হয়  ফায়ার ব্রিগেড সার্ভিসে। যখন কোনো অগ্মিকান্ড ঘটে তখন ঐ স্থানে থাকা মানুষগুলো জীবিত আছে নাকি মৃত বা কোনো প্রাণী আছে কিনা সেটি মূলত শনাক্ত করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। যার জন্য প্লান করে এর অভিজান চালানো হয়।

সক্রিয় দীপ্তি ঃ



এটা সবথেকে  বেশি জনপ্রিয়। এটা সিসি,আইপি টিভিতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো যেখানে আমরা খালি চোখে বা ক্যামেরার চোখে দেখতে পারি না,তখন ক্যামেরার ইন্ট্রো লাইটগুলো অন হয় এবং সেখানে আলো ছড়ায়। যে আলোর জন্য আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা কিন্তু ক্যামেরায় দেখতে পাই। ক্যামেরায় দেখলেও সেটা সাদা কালো দেখা যায় কিন্তু কালার  দেখাতে পারে না।
  
এটি যে কেবল মাত্র সিসি টিভি বা আইপি টিভিতে ব্যবহার করা হয় এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের রিমোটেও ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ ফ্রিজের রিমোট, টিভির রিমোটএসির রিমোট। আমরা এই রিমোট গুলার দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই রিমোটের সামনে ছোট একটি বাল্ব লাগানো আছে। যেটাতে আমরা যখন চাপ দেই তখন এটি থেকে আলোক রশ্মি বের হয়ে যায় এবং এসি, ফ্রিজ, টিভর সেন্সর তা গ্রহণ করে এবং তার এক্টিভিটি সম্পন্ন করে। কিন্তু আমরা এই আলোকে দেখতে পাই না। আমরা যখন এই রিমোটটিকে নিয়ে সিসি ক্যামেরার সামনে আলো জ্বালাই তখন সিসি টিভিটি সেই আলো দেখতে পাবে। এভাবেই মুলত ক্যামেরাই নাইট ভিশন কাজ করে থাকে।

এখন আসি চশমায় নাইট ভিশন কি ভাবে কাজ করেঃ



নাইট ভিশন চশমায় দুইটি প্রযুক্তিতে কাজ করতে পারে।


১.ইমেজ ইনহ্যান্সমেন্ট
২.থার্মাল ইমেজিং

ইমেজ ইনহ্যান্সমেন্টঃ



নাইট ভিশন চশমা ইমেজ ইনহ্যান্সমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্ধকারে অদৃশ্যমান আলোগুলোকে সংগৃহীত করে, এবং সেই আলোকে বুস্ট করে আলো উজ্জ্বল করে তোলে, যাতে আমারা চোখে তা দেখতে পাই।

থার্মাল ইমেজিংঃ



থার্মাল ইমেজিং এই প্রযুক্তি অনেক বেশি কার্যকারী। “থার্মাল” শব্দটির সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। এই প্রযুক্তি তাপের সাথে জড়িত। প্রত্যেকটি গরম বস্তু, সাথে মানুষের শরীর থেকে কিছু উত্তাপ ইনফ্রারেড লাইট আকারে নির্গত হয়। এখন থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলা নাইট 
ভিশন চশমা সেই গরম বস্তু হতে নির্গত হওয়া ইনফ্রারেড লাইট ক্যাপচার এবং একটি দৃষ্টিক্ষেত্র তৈরি করে। থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি তখন ব্যবহার করা হয় যখন অন্ধকারে কোন মানুষকে খোঁজা হয়।

0 komentar

Post a Comment