Thursday, October 24, 2019

হ্যাকিনটোস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব


প্রথমে অ্যাপল তাদের কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার তৈরি করতো নিজেরাই । মূলত তাদের পাওয়ার পিসিতে মটোরোলার পাওয়ার পিসি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হতো। কিন্তু , লোকেরা অ্যাপল কম্পিউটার খুব কম ব্যবহার করতো। তার উপর ইন্টেলের বানানো হাইস্পিড প্রসেসরগুলো বাজারে ছিল সবার আগে। কেননা অন্য সব কম্পিউটার নির্মাতা কোম্পানিগুলো সবাই ইন্টেলের প্রসেসর ব্যবহার করতো। এ অবস্থায় অ্যাপলও ২০০৫ সালে ইন্টেলের প্রসেসর ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ঘোষনা দেয় ও তাদের পরবর্তী কম্পিউটারগুলোতে তারা ইন্টেলের প্রসেসর ব্যবহার করবে।


তারপর হয় একটা আজব ঘটনা , ইন্টেলের প্রসেসরে যাওয়ার পর হ্যাকাররা হ্যাক করা শুরু করলো। আগের প্রসেসর সম্পর্কে অন্য লোকেদের কাছে তেমন কোনো ধারণা ছিলোন , কাজেই অ্যাপলের হার্ডওয়ার ছাড়া সেটা চালানো যেতো না।

কিন্তু ইন্টেলের প্রসেসর এর ব্যাপারে সকলেই কম বেশি ধারনা ছিল যেহেতু বাজারের সবাই কম্পিউটারে তাদের প্রসেসর ব্যবহার করতো। তখন হ্যাকাররা ভাবলো, আমরা যদি কোনভাবে ম্যাক ওএস কে দেখাতে পারি যে সে অ্যাপলের মেশিনেই চলছে তবে এখানে ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম চালানো সম্ভব হবে। এটার জন্য সারা পৃথিবীতে অনেকগুলো হ্যাকার প্রুপ কাজ শুরু করে ও এটা এখন একটা অনেকটাই সফল হয়ে ওঠে। এভাবেই একসময় হ্যাকাররা উইন্ডোজ মেশিনে ম্যাক ওএস চালাতে সক্ষম হল। এভাবেই “হ্যাক করা ম্যাকিনটোশ” – থেকে হ্যাকিনটোশ কথাটার রচনা হয়ে যেতে লাগলো।

আপনারা বুঝতেই পারছেন, ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম অ্যাপল সম্পূর্ণ নিজেদের হার্ডওয়্যারের জন্য বানিয়েছে। আপনি চাইলেই সেটা অ্যাপল মেশিন ছাড়া আপনার অন্য মেশিনে ইন্সটল করতে বা চালাতে পারবেন না।


হ্যাকিনটোশ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করলেও এখানে একটা কথা রয়ে যায়। উদাহরণে বলা যেতে পারে, একটা ছোট শার্ট একটা মোটা মানুষকে টেনেটুনে হয়তো পরানো যেতে পারে, কিন্তু সেটা কখনোই তার গায়ে ফিট হবে না ও যাকে পরানো হল তিনি শান্তি পাবে না। এখানে কথাটা একটু মিলে যায়।

আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার যদি পুরোপুরি হ্যাকিনটোশ কম্প্যাটিবল হয় সেক্ষেত্রে আপনি মোটামুটি কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন, সেটা সবমিলিয়ে হয়তো ভালোই চলবে কিন্তু এক্সপেরিয়েন্স পুরোপুরি আসল ম্যাক মেশিনের মত কখনোই হবেনা। তবে ১০০% কম্প্যাটিবল করা একটু কঠিন ব্যাপার, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটা হবেনা।


হয়তো আপনার কম্পিউটারের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জিনিস ঠিকমত কাজ করবে, বাকিটা করবেনা। হয়তো অপারেটিং সিস্টেম ঠিকমত কাজ করছে কিন্তু সাউন্ড কাজ করছেনা কিংবা গ্রাফিক্স খারাপ কিংবা ওয়াইফাই কাজ করছে না এমন হতে পারে। তবে এখন এটা আগের চেয়ে ভালো ও সহজ হওয়ার কথা। হয়তো হার্ডওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটি বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক।


অ্যাপলের যেকোনো প্রডাক্টের জন্য আপনি যদি সফটওয়্যার উন্নত করতে চান সেজন্য আপনাকে Mac OSX অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। এটি অ্যাপলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম। যেটা তাদের যেকোনো কম্পিউটারের সাথে প্রাইমারি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আসে। মানে হচ্ছে আপনি যদি একটা ম্যাকবুক প্রো কেনেন তবে এতে আপনি Mac OSX অপারেটিং সিস্টেম অবশ্যই পাবেন।

এখানে কথা হল, অ্যাপল আপনাকে কোনকিছুই বিনামূল্যে কখনোই দিবে না। তাদের বেশিরভাগ ভালো সফটওয়্যার অ্যাপস্টোর থেকে ক্রয় করতে হয় এবং সেগুলোর দাম আমাদের জন্য খুব বেশি। এমনকি তাদের ডেভেলপার রিসোর্স যা কিছু আছে সেগুলোর বেশিরভাগই প্রিমিয়াম, অর্থাৎ আপনি iOS ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট ক্রয় করলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ডেভেলপার রিসোর্স নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই, ইন্টারনেটে iOS কিংবা ম্যাক প্ল্যাটফর্ম কোনটারই রিসোর্সের কোন অভাব নেই।


হ্যাকিনটোস্ট চালানোর জন্য, আপনি অ্যাপল থেকে একটি মেশিন কেনা প্রয়োজন হবে না। আপনি আপনার নিজের পিসি আপ করতে এবং হ্যাকিনটশ চালাতে পারেন। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পিসি কাস্টমাইজ করতে পারেন। আপনি অ্যাপল এর কনফিগারেশন বজায় রাখতে হবে না কিন্তু হ্যাঁ, যদি আপনি হ্যাকিনটশ থেকে এটি পেতে চান, আপনি একটি ভাল কনফিগারেশন সঙ্গে আপনার পিসি নির্মাণ করা উচিত।


আপনি যদি একটি গেমিং পিসি থাকতে চান তাহলে আপনার অ্যাক্সেস গ্রাফিক্স আপ আপগ্রেড করার জন্য আপনার প্রোফাইল ভিডিও এডিটর? আরো ভালভাবে কাজ করতে চান? একটি শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড অন্তর্ভুক্ত করুন সর্বশেষ প্রসেসরের মধ্যে একটি হাফিন্টস পিসি অন্তর্ভুক্ত করুন এবং ক্ষমতা অনুভব করুন।


এই ছিল হ্যাকিনটোশ এর বর্ণনা। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে।

0 komentar

Post a Comment